ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া ও মুখের ব্যথার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন

মুখের একপাশে হঠাৎ করেই যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল—এমন তীব্র ব্যথা অনেকের জন্য দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই অবস্থাকে বলা হয় ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal Neuralgia)। প্রচলিত ওষুধে যখন ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আসে না বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) একটি আধুনিক ও ন্যূনতম আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নিবন্ধে আমরা RFA পদ্ধতিটি কীভাবে কাজ করে, এটি কাদের জন্য উপযুক্ত, সম্ভাব্য ঝুঁকি, এবং বাংলাদেশে এর প্রাপ্যতা ও খরচ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া কী এবং কেন এটি হয়?

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (TN) হল ট্রাইজেমিনাল নার্ভের (পঞ্চম ক্র্যানিয়াল নার্ভ) একটি সমস্যা, যা মুখের সংবেদনশীলতা ও নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই নার্ভের ওপর রক্তনালীর চাপ পড়লে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) থাকলে, বা কোনো টিউমারের কারণে নার্ভ সংকুচিত হলে TN দেখা দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মুখের একপাশে হঠাৎ করে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী তীব্র, শক-জাতীয় বা ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা। সাধারণত দাঁত ব্রাশ করা, মুখের ওপর হালকা স্পর্শ, ঠান্ডা বাতাস, বা চিবানোর মতো সাধারণ কাজগুলো ব্যথা ট্রিগার করতে পারে। এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে রোগী খেতে, কথা বলতে বা মুখের যত্ন নিতে ভয় পান। Face Pain (Trigeminal Neuralgia) চিকিৎসা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন।

রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে?

রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) একটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি, যা একটি বিশেষ সুইয়ের মাধ্যমে ট্রাইজেমিনাল নার্ভের ব্যথা-সৃষ্টিকারী শাখায় পৌঁছে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ ব্যবহার করে তাপ তৈরি করে। এই তাপ সেই নির্দিষ্ট নার্ভ টিস্যুকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যার ফলে মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পৌঁছানো বন্ধ হয়।

পদ্ধতিটি সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপে সম্পন্ন হয়:

  • রোগীকে স্থানীয় অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়, তাই প্রক্রিয়ার সময় তিনি জাগ্রত থাকেন কিন্তু ব্যথা অনুভব করেন না।
  • ফ্লুরোস্কোপি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে সুইটি সঠিক স্থানে নির্দেশিত হয়।
  • একটি পরীক্ষামূলক বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে সুইটি সঠিক নার্ভ শাখায় আছে।
  • তারপর রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ প্রয়োগ করে ৬০-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে নার্ভ টিস্যুকে অ্যাবলেট করা হয়।
  • পুরো প্রক্রিয়াটি ৩০-৬০ মিনিট সময় নেয় এবং সাধারণত একই দিনে রোগী বাড়ি ফিরতে পারেন।

যেহেতু এটি একটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি, তাই বড় অস্ত্রোপচারের তুলনায় রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ ও হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন কম।

কারা এই চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী?

RFA সাধারণত সেই ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া রোগীদের জন্য সুপারিশ করা হয় যারা নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করেন:

  • ওষুধ (যেমন কার্বামাজেপিন) দিয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন তন্দ্রা, মাথা ঘোরা) সহ্য করতে পারেন না।
  • বয়স বেশি (বৃদ্ধ) বা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণে বড় অস্ত্রোপচার (যেমন মাইক্রোভাসকুলার ডিকম্প্রেশন) ঝুঁকিপূর্ণ।
  • মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো রোগের কারণে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে সব রোগীর জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে RFA এড়ানো উচিত:

  • গর্ভবতী মহিলা।
  • যাদের রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা আছে বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ নিচ্ছেন (যদি না ওষুধ বন্ধ করা সম্ভব হয়)।
  • যাদের চিকিৎসার স্থানে সক্রিয় সংক্রমণ রয়েছে।
  • যারা চেতনানাশক ওষুধে অ্যালার্জিক।

প্রয়োজনে Face Pain (Trigeminal Neuralgia) চিকিৎসা

অতএব, একজন অভিজ্ঞ ব্যথা বিশেষজ্ঞ বা নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। Dr. MKB Tanveer-এর মতো বিশেষজ্ঞরা রোগীর সম্পূর্ণ মূল্যায়নের পরই এই পদ্ধতির পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সফলতার হার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

গবেষণা ও ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ায় RFA-এর সফলতার হার ৭০% থেকে ৯০% পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বা পুরোপুরি চলে যায়। তবে এটি একটি স্থায়ী সমাধান নয়—কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর ব্যথা ফিরে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে পুনরায় RFA বা অন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মুখের অসাড়তা: সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। নার্ভ নিষ্ক্রিয় করার ফলে ব্যথার জায়গায় সংবেদন কমে যেতে পারে, যা স্থায়ী বা অস্থায়ী হতে পারে।
  • পুনরায় ব্যথা ফিরে আসা: নার্ভ পুনরায় সক্রিয় হলে ব্যথা ফিরতে পারে।
  • সংক্রমণ বা রক্তক্ষরণ: সুই প্রবেশের স্থানে সামান্য ঝুঁকি থাকে।
  • চোখের পেশী দুর্বলতা বা কর্নিয়ার সমস্যা: অত্যন্ত বিরল, তবে চোখের শাখায় কাজ করার সময় ঘটতে পারে।

বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা জরুরি। ‘সম্পূর্ণ নিরাময়’ বা ‘১০০% সফল’ জাতীয় কোনো আশ্বাস দেওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসকের সাথে ঝুঁকি ও উপকারিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত।

চিকিৎসার আগে ও পরে করণীয়

চিকিৎসার আগে:

  • চিকিৎসককে আপনার সব ওষুধ, বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, ওয়ারফারিন) সম্পর্কে জানান। প্রক্রিয়ার আগে কিছু দিন এসব ওষুধ বন্ধ রাখতে হতে পারে।
  • প্রক্রিয়ার দিন সাধারণত খালি পেটে আসতে বলা হয় (অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা উপবাস)।
  • হাসপাতালে কেউ একজন সঙ্গী নিয়ে আসা ভালো, কারণ প্রক্রিয়ার পর কিছু সময় চালনা করা উচিত নয়।

প্রয়োজনে Back Pain or PLID চিকিৎসা

চিকিৎসার পরে:

  • প্রক্রিয়ার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকতে হতে পারে; সাধারণত একই দিনে বাড়ি ফেরা যায়।
  • ব্যথা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মুখের কিছু অংশে অসাড়তা থাকতে পারে। এটি স্বাভাবিক, তবে চোখের কর্নিয়ায় অসাড়তা থাকলে চোখের যত্ন নিতে হবে (যেমন নিয়মিত কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার) এবং চোখ ঘষা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • প্রথম কয়েকদিন নরম খাবার খাওয়া ও প্রচুর পানি পান করা ভালো।
  • ফলো-আপ ভিজিট মিস না করা। ব্যথা ফিরে এলে বা কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বাংলাদেশে এই চিকিৎসার প্রাপ্যতা ও খরচ

বাংলাদেশে ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার জন্য রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন পদ্ধতি ধীরে ধীরে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত ঢাকা, গাজীপুর ও অন্যান্য বড় শহরের কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও বিশেষায়িত ব্যথা ক্লিনিকে এই সেবা দেওয়া হয়। পদ্ধতিটি একজন প্রশিক্ষিত ব্যথা বিশেষজ্ঞ বা নিউরোসার্জন দ্বারা সম্পন্ন করা উচিত। সরকারি হাসপাতালে এই পদ্ধতি এখনও সীমিত; তাই রোগীদের প্রায়ই বেসরকারি খাতে যেতে হয়।

নিচে বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালে RFA-এর আনুমানিক খরচের একটি ধারণা দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, খরচ হাসপাতালের শ্রেণি, চিকিৎসকের ফি, অ্যানেস্থেশিয়া, এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে থাকার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

খরচের উপাদান আনুমানিক মূল্য (বাংলাদেশি টাকা) মন্তব্য
পদ্ধতি ফি (প্রক্রিয়া ও ডাক্তার) ৩০,০০০ – ৭০,০০০ চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা ও হাসপাতালের উপর নির্ভর করে।
অ্যানেস্থেশিয়া ফি ১০,০০০ – ২০,০০০ স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়া, সচেতন সেডেশন প্রয়োজন হতে পারে।
হাসপাতাল ভর্তি (যদি প্রয়োজন) ৫,০০০ – ২০,০০০/দিন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভর্তির প্রয়োজন নেই; ডে-কেয়ার প্রক্রিয়া।
ইমেজিং (ফ্লুরোস্কোপি/সিটি) ৫,০০০ – ১৫,০০০ সুই গাইড করার জন্য প্রয়োজনীয়।
ফলো-আপ ভিজিট ১,০০০ – ৩,০০০/বার প্রথম মাসে ১-২ বার, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী।

সুতরাং, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার মোট খরচ সাধারণত ৫০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। প্রয়োজনে হাসপাতালে থাকলে বা জটিলতা দেখা দিলে খরচ আরও বাড়তে পারে। চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে সঠিক মূল্য জেনে নেওয়া উচিত।

আপনার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল সম্পর্কে জানতে Dr. MKB Tanveer-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি

RFA ছাড়াও ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার জন্য আরও কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। প্রতিটি পদ্ধতির নিজস্ব উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসক সঠিকটি নির্বাচন করেন। উল্লেখযোগ্য বিকল্পগুলো:

  • ওষুধ: কার্বামাজেপিন, অক্সকার্বাজেপিন, গ্যাবাপেন্টিন ইত্যাদি প্রথম ধাপের চিকিৎসা। তবে দীর্ঘমেয়াদে সহনশীলতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমস্যা হতে পারে।
  • মাইক্রোভাসকুলার ডিকম্প্রেশন (MVD): একটি খোলা অস্ত্রোপচার যেখানে নার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টিকারী রক্তনালীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দিতে পারে, কিন্তু ঝুঁকি বেশি এবং রোগীকে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার অধীনে হাসপাতালে থাকতে হয়।
  • গামা নাইফ রেডিওসার্জারি: বিকিরণ ব্যবহার করে নার্ভকে নিষ্ক্রিয় করা হয়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। প্রভাব আসতে কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস লাগতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী সফলতা MVD-এর তুলনায় কম।
  • পারকিউটেনিয়াস ব্যালুন কম্প্রেশন বা গ্লিসারোল রাইজোটমি: অন্য ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি, যা RFA-এর মতোই তবে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় নার্ভ নিষ্ক্রিয় করে।

কোন পদ্ধতিটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তা নির্ধারণের জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন করতে গিয়ে কি ব্যথা লাগে?

প্রক্রিয়াটি সাধারণত স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার অধীনে করা হয়, অর্থাৎ যে অংশে সুচ প্রবেশ করানো হবে সেটি প্রথমে অসাড় করে দেওয়া হয়। ফলে প্রক্রিয়ার সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় না। অনেক রোগী শুধু চাপ বা সামান্য ঝিনঝিন অনুভব করেন। তবে পদ্ধতির পরে কিছুক্ষণের জন্য হালকা অস্বস্তি বা ফোলাভাব থাকতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।

একবার অ্যাবলেশন করলে ব্যথা থেকে কত বছর পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া যায়?

বেশিরভাগ গবেষণায় দেখা গেছে, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন থেকে ব্যথা উপশমের সময়কাল গড়ে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে—কারও ক্ষেত্রে ৫–৬ বছরও ভালো থাকেন, আবার কারও ক্ষেত্রে কিছু মাসের মধ্যেই ব্যথা ফিরে আসতে পারে। সময়কাল নির্ভর করে স্নায়ুর ক্ষতির মাত্রা, রোগীর বয়স এবং চিকিৎসকের দক্ষতার ওপর।

বয়স্ক বা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই চিকিৎসা কি নিরাপদ?

সাধারণত হ্যাঁ। এই পদ্ধতিটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক এবং এতে বড় কোনো কাটাছেঁড়া থাকে না, তাই বয়স্ক রোগী এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাঁদের জন্যও এটি নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। তবে চিকিৎসকের আগে অবশ্যই সম্পূর্ণ মেডিকেল ইতিহাস জানানো প্রয়োজন, বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে তা সাময়িক বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বাংলাদেশে এই চিকিৎসার জন্য কি কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে সহজেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে বর্তমানে ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও বিশেষায়িত নিউরোসায়েন্স সেন্টারে এই চিকিৎসা পাওয়া যায়, যেমন—স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগ, এবং কয়েকটি বড় জেলা সদর হাসপাতালেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। তবে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় সাধারণত ২–৪ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। সরকারি হাসপাতালে (যেমন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস) খরচ কম, কিন্তু সিট সংখ্যা সীমিত এবং অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হতে পারে।

রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের পর কি মুখে কোনো স্থায়ী দুর্বলতা বা অসাড়তা থেকে যায়?

এটি সম্ভাব্য একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। প্রক্রিয়াটির উদ্দেশ্য হলো ব্যথাবাহী স্নায়ু তন্তুকে নিষ্ক্রিয় করা, কিন্তু কখনো কখনো স্পর্শ বা তাপমাত্রা অনুভূত হওয়ার স্নায়ুতেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে চিকিৎসার পর কিছু রোগীর মুখের ওই অংশে অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব থেকে যায়, যা সাধারণত অস্থায়ী, তবে বিরল ক্ষেত্রে স্থায়ীও হতে পারে। চিকিৎসক সঠিক তাপমাত্রা ও সময় নিয়ন্ত্রণ করলে এই ঝুঁকি অনেক কমে যায়। কোনোরকম স্থায়ী অসাড়তা দেখা দিলে তা নিয়ে নিউরোলজিস্টের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।

More Health Tips & Guides From Dr. MKB Tanveer

Stay updated with the latest pain management and spine care tips, guides, treatment updates, and insights on back pain, sciatica, interventional procedures, and minimally invasive spine care.

রামপুরা ও বাড্ডায় মিনিমালি ইনভেসিভ স্পাইন ও পেইন ট্রিটমেন্ট

রামপুরা ও বাড্ডায় মিনিমালি ইনভেসিভ স্পাইন ও পেইন ট্রিটমেন্টের পদ্ধতি, সুবিধা, খরচ এবং চিকিৎসক বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে পাবেন। কোন…

Read More

পিআরপি (PRP) ও স্টেম সেলের মাধ্যমে হাঁটুর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা

হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য অস্ত্রোপচার ছাড়া পিআরপি ও স্টেম সেল থেরাপি কতটা কার্যকর? এই নিবন্ধে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, সীমাবদ্ধতা ও…

Read More

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া ও মুখের ব্যথার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন

মুখের একপাশে তীব্র, বিদ্যুৎ খেলার মতো ব্যথা হলে তা ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হতে পারে। ওষুধে না কমলে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) একটি…

Read More

পিঠের ব্যথা ও পিএলআইডি (PLID) এর নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা

পিঠের ব্যথা মানেই অস্ত্রোপচার নয়। পিএলআইডি (PLID) বা ডিস্ক স্লিপেজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসায় সেরে ওঠা সম্ভব। জানুন কার্যকর পদ্ধতি,…

Read More

ঢাকায় সেরা পেইন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তার

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগছেন? শুধু ব্যথানাশক নয়, ব্যথার মূল কারণ খুঁজে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। ঢাকায় পেইন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ বাছাইয়ের আগে জেনে…

Read More

সাইটিকা ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা

সাইটিকা ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত: রক্ষণশীল পদ্ধতি, ইন্টারভেনশনাল থেরাপি, সার্জারি ও বাংলাদেশে চিকিৎসার খরচ। সঠিক রোগ নির্ণয় ও রেড…

Read More
WhatsApp Dr. MKB Tanveer