দৈনন্দিন জীবনে আমরা কত রকমের ব্যথার কথাই না শুনি! কিন্তু এমন একটি ব্যথা আছে, যা মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ করে দেয়। কথা বলতে গেলে, খাবার চিবানোর সময়, এমনকি মুখে সামান্য পানির ঝাপটা দিলে বা বাতাস লাগলে যদি মুখের একপাশে কারেন্টের শকের মতো তীব্র, অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়—তবে এটি সাধারণ কোনো দাঁত বা গালের ব্যথা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal Neuralgia)।
একে পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে কষ্টদায়ক ব্যথা বা ‘Suicide Disease’-ও বলা হয়ে থাকে। অনেকেই এই ব্যথাকে সাধারণ দাঁতের ব্যথা মনে করে ভুলবশত ভালো দাঁত তুলে ফেলেন, কিন্তু তাতেও ব্যথা কমে না।
আজ আমরা জানবো কীভাবে কোনো বড় ধরনের অপারেশন বা মাথার খুলি কাটাছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর (Dr. MKB Tanveer) এই জটিল রোগের সফল চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal Neuralgia) কী এবং কেন হয়?
আমাদের মস্তিষ্কে ১২ জোড়া ক্রেনিয়াল নার্ভ বা স্নায়ু থাকে। এর মধ্যে ৫ নম্বর নার্ভটির নাম ‘ট্রাইজেমিনাল নার্ভ’। এই নার্ভটি আমাদের মুখমণ্ডল, চোয়াল, দাঁত ও মাড়ির অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়।
কোনো কারণে মস্তিষ্কের ভেতরের একটি রক্তনালী যদি এই ট্রাইজেমিনাল নার্ভের ওপর চেপে বসে বা চাপ সৃষ্টি করে, তখন নার্ভের চারপাশের সুরক্ষামূলক আবরণটি (Myelin Sheath) ক্ষয়ে যায়। ফলে নার্ভটি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সামান্য স্পর্শ পেলেই মস্তিষ্কে তীব্র ব্যথার সংকেত পাঠাতে শুরু করে।
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ
আপনার মুখের ব্যথাটি ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া কি না, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন:
- মুখের একপাশে (সাধারণত চোয়াল, মাড়ি, গাল, ঠোঁট বা চোখের নিচে) হঠাৎ তীব্র সুঁই ফোটার মতো বা ইলেকট্রিক শকের মতো ব্যথা হওয়া।
- ব্যথাটি কয়েক সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং বারবার ফিরে আসতে পারে।
- সাধারণ কিছু কাজ যেমন—ব্রাশ করা, মুখ ধোয়া, খাবার চিবানো, কথা বলা, মেকআপ করা বা মৃদু বাতাসেও এই ব্যথা আকস্মিক শুরু হয়ে যায়।
- ব্যথার তীব্রতায় রোগী পঙ্গুর মতো হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
অপারেশন ছাড়া ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
অনেকেই মনে করেন ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হলে মস্তিষ্কে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার (Microvascular Decompression – MVD) ছাড়া কোনো উপায় নেই। কিন্তু ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্টের কল্যাণে এখন বিনা অপারেশনে, ডে-কেয়ার প্রসিডিউরের মাধ্যমে এই রোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আমেরিকা ও ভারত থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর অত্যন্ত সফলতার সাথে এই আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন:
1.সঠিক রোগ নির্ণয় ও ওষুধের সমন্বয়:ধাপ ১.
প্রথমেই লক্ষণ পর্যালোচনা এবং ব্রেইন এমআরআই (MRI) এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হয় যে ব্যথাটি ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া। প্রাথমিক অবস্থায় রোগীদের কিছু বিশেষ নার্ভের ওষুধ (যেমন- Carbamazepine, Oxcarbazepine) দিয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।
2.ইন্টারভেনশনাল পেইন ব্লক (C-Arm Guided):ধাপ ২.
যখন উচ্চমাত্রার ওষুধেও ব্যথা কমে না কিংবা ওষুধের কারণে অতিরিক্ত ঘুম, মাথা ঘোরা বা লিভার-কিডনির ওপর চাপ পড়ে, তখন ইন্টারভেনশন বা ইনজেকশন থেরাপির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে লাইভ এক্স-রে (C-Arm) দেখে নিখুঁতভাবে মুখের ভেতরের নির্দিষ্ট নার্ভে এই ব্লক দেওয়া হয়।
3.রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) — আধুনিক ও স্থায়ী চিকিৎসা:ধাপ ৩.
এটি ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার সবচেয়ে সফল ও বৈপ্লবিক চিকিৎসা। এতে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই, একটি বিশেষ সুঁই (Electrode) গালের চামড়ার ভেতর দিয়ে ট্রাইজেমিনাল গ্যাংলিয়নে প্রবেশ করানো হয়। এরপর রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ দিয়ে নার্ভের ব্যথার সংকেত পাঠানোর অংশটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।
ড. এম কে বি তানভীরের অধীনে চিকিৎসার সুবিধা কী কী?
- কোনো কাটাছেঁড়া বা সেলাই নেই: এই চিকিৎসায় মাথার খুলি কাটার বা এনেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না।
- লাইভ ইমেজ গাইডেড প্রযুক্তি: ড. তানভীর আল্ট্রাসাউন্ড বা সি-আর্ম ফ্লুরোস্কোপি প্রযুক্তির মাধ্যমে শতভাগ নিখুঁতভাবে নার্ভ চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেন, ফলে ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
- দ্রুত রিকভারি (Day Care Procedure): প্রসিডিউরটি সম্পন্ন হতে মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। চিকিৎসার পরদিনই রোগী সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন।
- ১২,০০০+ রোগীর বিশ্বস্ততা: ১০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. তানভীর বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পেইন স্পেশালিস্ট, যিনি জটিল সব ব্যথার সফল চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
মুখের অসহ্য ব্যথাকে বিদায় জানান আজই!
মুখের এই তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিক সময়ে সঠিক পেইন স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিলে বিনা অপারেশনেই আপনি ফিরে পেতে পারেন একটি স্বাভাবিক, হাসিখুশি ও ব্যথামুক্ত জীবন।
ড. এম কে বি তানভীর বর্তমানে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন নামী চেম্বারে (রামপুরা, উত্তর বাড্ডা, পান্থপথ এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া) নিয়মিত রোগী দেখছেন।