আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হাতের নানাবিধ কাজের জন্য কনুইয়ের জয়েন্ট বা গিঁট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় কনুইয়ের বাইরের বা ভেতরের দিকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, যা হাত বেয়ে নিচের দিকে নেমে যায়। কোনো ভারী জিনিস বা পানির মগ তুলতে গেলে, স্ক্রু-ড্রাইভার ঘুরাতে গেলে, এমনকি কারও সাথে করমর্দন (Handshake) করতে গেলেও কনুইয়ে প্রচণ্ড টান লাগে এবং তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় টেনিস এলবো (Tennis Elbow) বা গলফার্স এলবো (Golfer’s Elbow)। নাম টেনিস এলবো হলেও, যারা নিয়মিত ক্রিকেট বা টেনিস খেলেন কেবল তারাই যে এই রোগে ভোগেন—তা কিন্তু নয়। আমাদের দেশে গৃহিণী (যারা কাপড় নিংড়ানো বা ঘর মোছার কাজ করেন), কম্পিউটার অপারেটর, রাজমিস্ত্রি বা যারা হাতের কব্জি ও কনুই অতিরিক্ত ব্যবহার করেন, তাদের এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়।
অনেকেই এই ব্যথার জন্য বছরের পর বছর পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খেতে থাকেন, যা সাময়িক আরাম দিলেও লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। আজ আমরা জানবো ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর (Dr. MKB Tanveer) কীভাবে কোনো ক্ষতিকর ওষুধ বা বড় অপারেশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও আধুনিক পিআরপি (PRP – Platelet-Rich Plasma) থেরাপী-র মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিচ্ছেন।
টেনিস এলবো বা কনুই ব্যথার প্রধান লক্ষণসমূহ
- কনুইয়ের বাইরের বা ভেতরের হাড়ে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা অনুভব করা।
- হাতের মুঠো শক্ত করলে, কোনো জিনিস টেনে ধরলে বা চাবি ঘুরাতে গেলে কনুইয়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
- কনুই সো প্রথমে রোগীর শরীর থেকে অত্যন্ত সাধারণ উপায়ে সামান্য পরিমাণ (যেমন- ১০ থেকে ২০ মিলি) রক্ত নেওয়া হয়, ঠিক যেভাবে প্যাথলজিক্যাল টেস্টের জন্য রক্ত নেওয়া হয়। সংগৃহীত রক্ত একটি স্টেরয়েড ইনজেকশনের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।
- প্রাকৃতিকভাবে আরোগ্য লাভ: এটি কেবল ব্যথা কমায় না, বরং কন বিশেষ টেস্টটিউবে রেখে অত্যাধুনিক ‘সেন্ট্রিফিউজ’ (Centrifuge) মেশিনে অত্যন্ত দ্রুত গতিুইয়ের ক্ষতিগ্রস্ত লিগামেন্ট বা টেন্ডনকে প্রাকৃতিকভাবে জোড়া লাগাতে বা মেরামত করতে সাহায্য করে।
- বিনা অপারেশনে মুক্তিতে ঘুরানো হয়। এর ফলে রক্তের লোহিত কণিকা থেকে গ্রোথ ফ্যাক্টর এবং প্লেটলেট (অণুচক্রিকা) সমৃদ্ধ তরল অংশটি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। এই অংশেই থাকে শরীরের কোষ পুনর্গঠনের মূল উপাদান। : টেনিস এলবোর জন্য এখন আর বড় কাটাছেঁড়া বা অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের এই প্রসিডিউর ড. তানভীর কোনো রকম অনুমান বা আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে ইনজেকশন দেন না। তিনি লাইটি আপনাকে সুস্থ করে তুলতে পারে।
- দ্রুত কাজে ফেরা: এটি একটি আউটডোর বা ডে-কেয়ার প্রসিডিউর। ইনভ আল্ট্রাসাউন্ড (MSK Ultrasound) স্ক্রিনে দেখে নিখুঁতভাবে কনুইয়ের ঠিক যে টেন্ডন বা টিজেকশন নেওয়ার পর কোনো বেড-রেস্টের প্রয়োজন নেই; আপনি দ্রুত আপনার স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারবেন।
ড. এম কে বি তানভস্যুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে এই ঘন পিআরপি (PRP) ইনজেক্ট করে দেন।
কেন কনুইয়ের ব্যথায় ড. তানভীরের PRP থেরাপী সবচেয়ে সেরা?
- শতভাগ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ: যেহেতু চিকিৎসায় রোগীর নিজের রক্ত ব্যবহার করা হয়, তাই এতে কোনো ধরণের কেমিক্যাল থাকে না এবং কোনো অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার (Side Effects) ঝুঁকি থাকে না।
- মূল কারণের স্থায়ী চিকিৎসা: সাধারণ স্টেরয়েড ইনজেকশন কেবল সাময়িকভাবে ব্যথা কমায়, কিন্তু পিআরপি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত টেন্ডনকে পুনর্গঠন ও মেরামত (Tissue Healing) করে ব্যথার মূল কারণ দূর করে।
- কোনো কাটাছেঁড়া বা অপারেশন নেই: এটি একটি সুই-ভিত্তিক ডে-কেয়ার প্রসিডিহেলা করলে তা একসময় ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী হয়ে হাতকে অকেজো করে দিতে পারে। তাই রোগ লুকিয়ে না রেখে শুরুতেই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক রিজেনারেটিভ চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আমেরিকা এবং ভারত থেকে উচ্চতর ফেলোশিপপ্রাপ্ত এবং মাস্কুলোস্কেলিটাল (MSK) আল্ট্রাসাউন্ডে বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকারী পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর আপনাকে দিতে পারেন ব্যথামুক্ত ও সচল হাতের নিশ্চয়তা।