আমাদের শরীরের অন্যতম সচল এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়েন্ট হলো কাঁধ বা শোল্ডার জয়েন্ট। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কোনো বড় আঘাত ছাড়াই হঠাৎ কাঁধের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং আস্তে আস্তে কাঁধটি এমনভাবে জ্যাম বা শক্ত হয়ে যায় যে হাত ওপরে তোলা, পিঠের দিকে নেওয়া বা জামা পরা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অ্যাডেসিভ ক্যাপসুলাইটিস (Adhesive Capsulitis), যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ (Frozen Shoulder) নামে পরিচিত। আমাদের কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের যে নরম আবরণ বা ক্যাপসুল থাকে, তা কোনো কারণে সংকুচিত হয়ে গেলে, পুরু বা শক্ত হয়ে গেলে এবং ভেতরে তরল পদার্থের অভাব হলে এই তীব্র জ্যাম ও ব্যথার সৃষ্টি হয়।
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী, থাইরয়েডের সমস্যা থাকা ব্যক্তি এবং স্ট্রোকের পর যাদের হাত দীর্ঘদিন অচল থাকে, তাদের মধ্যে ফ্রোজেন শোল্ডারের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। অনেকে মনে করেন এর একমাত্র চিকিৎসা হলো দিনের পর দিন পেইনকিলার খাওয়া বা জোরপূর্বক ফিজিওথেরাপি নেওয়া (যা অনেক সময় ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়)। কিন্তু আধুনিক ইন্টারвенশনাল পেইন ম্যানেজমেন্টের কল্যাণে এখন কোনো বড় অপারেশন বা দীর্ঘদিনের কষ্ট ছাড়াই নার্ভ ব্লক (Nerve Block) এবং জয়েন্ট হাইড্রোডিসটেনশন (Joint Hydrodistension) প্রযুক্তির সাহায্যে কাঁধকে দ্রুত সচল ও ব্যথামুক্ত করা সম্ভব।
আজ আমরা জানবো পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর (Dr. MKB Tanveer) কীভাবে এই অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ফ্রোজেন শোল্ডারের স্থায়ী সমাধান দিচ্ছেন।
ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধ জ্যাম হওয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ
- কাঁধের জয়েন্টে সার্বক্ষণিক কামড়ানো বা চিবানো ব্যথা থাকা, যা বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় আক্রান্ত পাশে চাপ লাগলে বহুগুণ বেড়ে যায়।
- হাত ওপরে তুলে মাথার চুল আঁচড়াতে, জামা পরতে বা পিঠের দিকে হাত নিতে তীব্র কষ্ট হওয়া বা হাত লক হয়ে যাওয়া।
- আস্তে আস্তে কাঁধের নড়াচড়া বা মুভমেন্ট রেঞ্জ (Range of Motion) একদম কমে যাওয়া এবং কাঁধটি কাঠের মতো শক্ত মনে হওয়া।
- ব্যথার কারণে আক্রান্ত হাত দিয়ে কোনো ভারী জিনিস তোলা বা দূরে প্রসারিত করতে না পারা।
অপারেশন ছাড়া ফ্রোজেন শোল্ডার চিকিৎসার দুই বৈপ্লবিক পদ্ধতি
ফ্রোজেন শোল্ডারের তীব্র ব্যথা দূর করতে এবং জ্যাম হয়ে যাওয়া কাঁধকে প্রাকৃতিকভাবে আলগা করতে পেইন মেডিসিনে দুটি অত্যন্ত আধুনিক ও সফল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ড. এম কে বি তানভীর লাইভ আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই প্রসিডিউরগুলো সম্পন্ন করেন:
১. আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড নার্ভ ব্লক (Suprascapular Nerve Block)
ফ্রোজেন শোল্ডারের রোগীরা ব্যথার কারণে হাত একদম নড়াচড়া করতে পারেন না। তাই চিকিৎসার শুরুতেই ব্যথা দূর করা জরুরি।
- কীভাবে কাজ করে: কাঁধের জয়েন্ট থেকে ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে নিয়ে যায় ‘সুপ্রাস্ক্যাপুলার নার্ভ’ নামক একটি প্রধান স্নায়ু। ড. তানভীর লাইভ আল্ট্রাসাউন্ড (MSK Ultrasound) স্ক্রিনে দেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি সূক্ষ্ম নিডেলের সাহায্যে এই নার্ভটিকে সাময়িকভাবে অবশ বা ব্লক করে দেন।
- ফলাফল: নার্ভ ব্লক করার সাথে সাথেই কাঁধের তীব্র ব্যথা নাটকীয়ভাবে কমে যায়, ফলে রোগী খুব সহজে এবং আরামদায়কভাবে হাত নাড়াচড়া করতে পারেন।
২. জয়েন্ট হাইড্রোডিসটেনশন বা হাইড্রোডাইলেশন (Joint Hydrodistension)
এটি ফ্রোজেন শোল্ডারের জ্যাম বা শক্ত ভাব দূর করার সবচেয়ে আধুনিক ও বৈপ্লবিক চিকিৎসা।
- কীভাবে কাজ করে: আল্ট্রাসাউন্ড গাইডের সাহায্যে সরাসরি স্ক্রিনে দেখে কাঁধের সংকুচিত হয়ে যাওয়া ক্যাপসুলের ভেতরের ফাঁকা জায়গায় (Intra-articular space) বিশেষ নরমাল স্যালাইন, লোকাল এনেস্থেসিয়া এবং অতি সামান্য প্রদাহনাশক ওষুধের একটি বৈজ্ঞানিক মিশ্রণ চাপের মাধ্যমে পুশ করা হয়।
- ফলাফল: এই তরলের প্রেশার বা চাপের কারণে ভেতরের সংকুচিত এবং আঠার মতো লেগে থাকা ক্যাপসুলটি প্রসারিত হয়ে ফেটে যায় (Capsular Distension)। ফলে কাঁধের ভেতরের জ্যাম তাৎক্ষণিকভাবে খুলে যায় এবং কাঁধটি সম্পূর্ণ সচল হয়ে ওঠে।
কেন ওপেন সার্জারি বা সাধারণ ফিজিওথেরাপির চেয়ে এই চিকিৎসা শ্রেয়?
কোনো কাটাছেঁড়া বা সেলাই নেই
এই চিকিৎসায় কাঁধের চামড়া কাটার বা অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিডেলের সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, তাই কোনো দাগ বা সেলাই থাকে না।
তাত্ক্ষণিক জ্যাম ও ব্যথা থেকে মুক্তি
যেখানে সাধারণ ফিজিওথেরাপিতে মাসের পর মাস কষ্ট পেয়েও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না, সেখানে হাইড্রোডিসটেনশন প্রসিডিউরের পরপরই কাঁধের জ্যাম উধাও হয়ে যায় এবং হাত সহজে ওপরে তোলা যায়।
শতভাগ নিরাপদ ও নিখুঁত প্রযুক্তি
ড. তানভীর মাস্কুলোস্কেলিটাল (MSK) আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সরাসরি স্ক্রিনে লাইভ দেখে জয়েন্টের সঠিক স্থানে ওষুধ প্রয়োগ করেন, তাই এটি শতভাগ নিখুঁত ও নিরাপদ।
সম্পূর্ণ ডে-কেয়ার পদ্ধতি
হাসপাতালে ভর্তি থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের প্রসিডিউর শেষে রোগী একই দিনে হাসিমুখে নিজের হাত নাড়াতে নাড়াতে বাসায় ফিরে যেতে পারেন।
ফ্রোজেন শোল্ডারের কষ্টকে বিদায় জানান আজই!
ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো কারণে কাঁধের ব্যথায় দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব মেনে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিক সময়ে সঠিক পেইন স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি সহজেই ফিরে পেতে পারেন আপনার সচল ও গতিময় স্বাভাবিক জীবন।
আমেরিকা এবং ভারত থেকে উচ্চতর ফেলোশিপপ্রাপ্ত এবং মাস্কুলোস্কেলিটাল (MSK) আল্ট্রাসাউন্ডে বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকারী পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর উন্নত বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশের রোগীদের এই সফল চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। আপনার কাঁধের ব্যথা ও জ্যামকে আর বাড়তে দেবেন না, আজই একটি সঠিক ও আধুনিক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিন।