আজকের ডিজিটাল যুগে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, ঝুঁকে মোবাইল ব্যবহার করা বা ভুল পজিশনে ঘুমানোর কারণে ঘাড় ব্যথার সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় এই ঘাড় ব্যথা কেবল ঘাড়ে সীমাবদ্ধ না থেকে কাঁধ, পিঠ এবং পুরো হাত বেয়ে আঙুল পর্যন্ত নেমে আসে। হাত ভারী হয়ে যায়, ঝিনঝিন করে বা অবশ মনে হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সার্ভাইকাল রেডিকুলোপ্যাথি (Cervical Radiculopathy)। সাধারণত ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ডিস্ক সরে গিয়ে (Cervical PLID) যখন হাতের দিকে নেমে যাওয়া প্রধান স্নায়ু বা নার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে, তখনই এই যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়।
অনেকেই মনে করেন ঘাড়ের নার্ভের সমস্যা মানেই মেরুদণ্ডে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অপারেশন। কিন্তু আধুনিক ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্টের কল্যাণে এখন কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই একটি টার্গেটেড ও নিখুঁত চিকিৎসা সার্ভাইকাল এপিডুরাল ইনজেকশন (Cervical Epidural Injection)-এর মাধ্যমে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
আজ আমরা জানবো পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর (Dr. MKB Tanveer) কীভাবে এই আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে ঘাড় ও হাতের অসহ্য ব্যথা দূর করছেন।
ঘাড়ের ব্যথা হাতে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান লক্ষণসমূহ
- ঘাড়ে সার্বক্ষণিক কামড়ানো বা চিবানো ব্যথা থাকা, যা মাথা ডানে-বামে বা ওপরে-নিচে ঘুরালে বহুগুণ বেড়ে যায়।
- ব্যথা ঘাড় থেকে শুরু হয়ে কাঁধ, ডানা (Scapula) এবং পুরো হাত বেয়ে অনামিকা বা বৃদ্ধাঙ্গুলি পর্যন্ত নেমে আসা।
- আক্রান্ত হাতটি সবসময় অবশ অবশ লাগা, সুঁই ফোটার মতো ঝিনঝিন (Tingling) করা বা সুইমিং করা।
- হাতের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, যার ফলে ভারী জিনিস তুলতে কষ্ট হওয়া বা হাত থেকে হঠাৎ জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া।
সার্ভাইকাল এপিডুরাল ইনজেকশন কী এবং কীভাবে কাজ করে?
সার্ভাইকাল এপিডুরাল ইনজেকশন হলো ঘাড়ের চাপ খাওয়া স্নায়ুর প্রদাহ দূর করার একটি অত্যন্ত উন্নত এবং বিনা অপারেশনের (Non-Surgical) আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা।
1.রোগ নির্ণয় ও লাইভ এক্স-রে গাইড:
প্রথমে ঘাড়ের একটি উন্নত এমআরআই (MRI) পরীক্ষার মাধ্যমে ঠিক কোন কশেরুকার (যেমন- C5-C6 বা C6-C7) ডিস্কটি বের হয়ে নার্ভের ওপর চাপ দিচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হয়। এরপর অপারেশন থিয়েটারে লাইভ এক্স-রে (C-Arm Fluoroscopy) স্ক্রিনে ঘাড়ের নিখুঁত অবস্থান দেখা হয়।
2.স্থানটি অবশ করা (Local Anesthesia):
এটি একটি ডে-কেয়ার প্রসিডিউর এবং রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার কোনো প্রয়োজন হয় না। ঘাড়ের নির্দিষ্ট অংশটি স্থানীয়ভাবে অবশ করে নেওয়া হয়, ফলে রোগী পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যথা অনুভব করেন না।
3.প্রদাহনাশক ওষুধ সরাসরি এপিডুরাল স্পেসে পৌঁছানো:
লাইভ সি-আর্ম এক্স-রে স্ক্রিনে দেখে দেখে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একটি সূক্ষ্ম নিডেল মেরুদণ্ডের ‘এপিডুরাল স্পেস’ বা নার্ভ রুটের একদম কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষ প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory) ওষুধ ইনজেক্ট করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নার্ভের ফোলাভাব এবং রক্তসঞ্চালনের বাধা দূর করে।
কেন এই চিকিৎসাটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর?
- অপারেশনের ঝুঁকি নেই: ঘাড়ের অপারেশনে মেরুদণ্ডের কর্ড বা নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে ভয় থাকে, এই সুনির্দিষ্ট চিকিৎসায় সেই ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
- শতভাগ নিখুঁত প্রযুক্তি: ড. তানভীর কোনো রকম অনুমান বা আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে ইনজেকশন দেন না। আধুনিক সি-আর্ম (Live X-ray) গাইডের মাধ্যমে সরাসরি স্ক্রিনে দেখে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তাই এটি শতভাগ নিখুঁত।
- তাত্ক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী আরাম: এই ইনজেকশন সরাসরি ব্যথার উৎসে কাজ করায় প্রসিডিউর শেষের কয়েকদিনের মধ্যেই হাতের ঝিনঝিন ও অবশ ভাব উধাও হয়ে যায় এবং রোগী দীর্ঘমেয়াদী সুফল পান।
- হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই: প্রসিডিউরটি সম্পন্ন হতে মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। এর পর ঘণ্টা দুয়েক বিশ্রাম নিয়ে রোগী হেঁটেই বাসায় চলে যেতে পারেন।
ঘাড়ের ব্যথাকে অবহেলা করবেন না: আজই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
ঘাড়ের নার্ভে দীর্ঘদিনের চাপ অবহেলা করলে একসময় হাতের পেশি স্থায়ীভাবে শুকিয়ে যেতে পারে বা অবশ হয়ে যেতে পারে। তাই দিনের পর দিন উচ্চমাত্রার পেইনকিলার খেয়ে লিভার-কিডনি ধ্বংস না করে, ব্যথার মূল কারণটি দূর করুন।
আমেরিকা এবং ভারত থেকে উচ্চতর ফেলোশিপপ্রাপ্ত পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর উন্নত বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশের রোগীদের এই সফল চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। আপনার ঘাড়ের ব্যথা যদি হাতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তবে আর দেরি না করে আজই একটি সঠিক এবং আধুনিক সুচিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিন।