বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট বা গিঁটে ব্যথা হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে প্রবীণদের ক্ষেত্রে হাঁটুর ব্যথা বা হাঁটুর ক্ষয় রোগ (Knee Osteoarthritis) জীবনের স্বাভাবিক গতিকে থামিয়ে দেয়। নিচে বসা, নামাজ পড়া, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, এমনকি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও একসময় যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।
অনেকেরই ধারণা, হাঁটুর হাড় বা কার্টিলেজ (নরম হাড়) একবার ক্ষয়ে গেলে বড় ধরনের অপারেশন করে হাঁটু প্রতিস্থাপন (Knee Replacement Surgery) ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার বৈপ্লবিক আবিষ্কার ‘রিসেন্টারেটিভ মেডিসিন’ (Regenerative Medicine) এবং ‘ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট’-এর কল্যাণে এখন কোনো বড় অপারেশন ছাড়াই হাঁটুর ব্যথা দূর করা এবং ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।
আজ আমরা জানবো পেইন স্পেশালিস্ট ড. এম কে বি তানভীর (Dr. MKB Tanveer) কীভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই হাঁটুর ব্যথার স্থায়ী সমাধান দিচ্ছেন।
হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রধান লক্ষণসমূহ
- হাঁটলে, দাঁড়ালে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সময় হাঁটুতে তীব্র ব্যথা হওয়া।
- দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ উঠতে গেলে হাঁটু জ্যাম বা শক্ত হয়ে থাকা (Stiffness)।
- হাঁটু ভাঁজ করার সময় বা হাঁটার সময় ভেতরে ‘কট কট’ শব্দ হওয়া (Crepitus)।
- হাঁটুর চারপাশ ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া বা স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হওয়া।
- ব্যথার তীব্রতায় পায়ের আকৃতি আস্তে আস্তে ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া।
অপারেশন ছাড়া হাঁটুর ব্যথার ৩টি বৈপ্লবিক ও আধুনিক চিকিৎসা
আমেরিকা এবং ভারত থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পেইন ফিজিশিয়ান ড. এম কে বি তানভীর হাঁটুর ক্ষয় ও ব্যথার তীব্রতা অনুযায়ী নিচের ৩টি আধুনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন:
১. পিআরপি থেরাপী (PRP – Platelet-Rich Plasma)
এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
- কীভাবে কাজ করে: প্রথমে রোগীর শরীর থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়। এরপর সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের সাহায্যে সেই রক্ত থেকে প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা সমৃদ্ধ অংশ আলাদা করা হয় (যাতে প্রচুর গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে)। আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড প্রযুক্তির মাধ্যমে এই পিআরপি (PRP) সরাসরি হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টে ইনজেক্ট করা হয়।
- ফলাফল: এটি হাঁটুর ভেতরের কার্টিলেজ বা নরম হাড়ের ক্ষয় পূরণ করে, নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট (পিচ্ছিল ভাব) বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা কমায়।
২. স্টেম সেল থেরাপী (Stem Cell Therapy)
হাঁটুর ক্ষয় যখন একটু বেশি মাত্রায় পৌঁছায়, তখন স্টেম সেল থেরাপী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- কীভাবে কাজ করে: রোগীর নিজস্ব শরীরের চর্বি (Fat) বা বোন ম্যারো থেকে সুস্থ স্টেম সেল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর নিখুঁতভাবে হাঁটুর জয়েন্টে তা প্রবেশ করানো হয়।
- ফলাফল: স্টেম সেলের মধ্যে অলৌকিক পুনরুত্পাদন ক্ষমতা থাকে। এটি হাঁটুর ক্ষয়ে যাওয়া হাড় ও লিগামেন্টকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে এবং হাঁটুর আয়ু বৃদ্ধি করে।
৩. জেনিকুলার নার্ভ রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (Genicular Nerve RF Ablation)
যাদের হাঁটুর ক্ষয় একদম শেষ স্তরে পৌঁছে গেছে, তীব্র ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতে পারেন না এবং বয়স বা হার্টের সমস্যার কারণে অপারেশন করা সম্ভব নয়—তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার ও বৈপ্লবিক চিকিৎসা।
- কীভাবে কাজ করে: হাঁটুতে ব্যথার সংকেত বহন করে নিয়ে যায় ‘জেনিকুলার নার্ভ’ নামক কিছু সূক্ষ্ম স্নায়ু। অপারেশন থিয়েটারে সি-আর্ম (Live X-ray) প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই বিশেষ নিডেলের মাধ্যমে এই নার্ভগুলোতে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ (Thermal Energy) প্রয়োগ করা হয়।
- ফলাফল: এই তরঙ্গের ফলে নার্ভগুলো ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ফলে রোগী তাৎক্ষণিকভাবে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ীভাবে হাঁটুর তীব্র ব্যথা থেকে মুক্তি পান।
কেন ড. তানভীরের এই নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসাগুলো বেছে নেবেন?
1.কোনো অপারেশন বা কৃত্রিম জয়েন্ট নয়:সুবিধা ১.
এতে শরীর কাটার প্রয়োজন হয় না, কোনো সেলাই লাগে না এবং শরীরে কোনো কৃত্রিম ধাতব জয়েন্ট বসানো হয় না।
2.১০০% প্রাকৃতিক ও নিরাপদ:সুবিধা ২.
যেহেতু PRP এবং স্টেম সেলে রোগীর নিজের রক্ত বা কোষ ব্যবহার করা হয়, তাই এতে কোনো অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে না।
3.ডে-কেয়ার প্রসিডিউর:সুবিধা ৩.
হাসপাতালে ভর্তি থাকার ঝামেলা নেই। মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে প্রসিডিউর শেষ করে রোগী হেঁটেই বাসায় ফিরে যেতে পারেন।
4.দীর্ঘমেয়াদী পেইনকিলার থেকে মুক্তি:সুবিধা ৪.
নিয়মিত ব্যথানাশক বা পেইনকিলার খেলে লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই আধুনিক চিকিৎসা আপনাকে পেইনকিলারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আজীবন দূরে রাখবে।
হাঁটুর ব্যথাকে বিদায় জানিয়ে স্বাধীনভাবে হাঁটুন আজই!
হাঁটুর ব্যথা মানেই পঙ্গুত্ব নয়, আর এর সমাধান মানেই কেবল বড় অপারেশন নয়। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক ইন্টারভেনশনাল ও রিজেনারেটিভ চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি সহজেই ফিরে পেতে পারেন আপনার চঞ্চল ও গতিময় জীবন।
১২,০০০-এরও বেশি রোগীকে ব্যথামুক্ত জীবনের আলো দেখানো ড. এম কে বি তানভীর উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশের রোগীদের এই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। আপনার বা আপনার পরিবারের প্রিয় মানুষটির হাঁটুর ব্যথাকে আর বাড়তে দেবেন না, আজই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।